Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
সকালবেলা প্রশান্ত স্যার ঘুম থেকে উঠে দেখে বিকাশ ঘরে নেই | ওর ল্যাপটপ , জামাকাপড় , আনুষঙ্গিক যাবতীয় জিনিস অনুপস্থিত | দ্রুতপায়ে উনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন |
নিচে ডাইনিং রুমে ঢুকেই ওনার চক্ষুস্থির | রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে রজনীশের মৃতদেহ | প্রাথমিকভাবে বিকাশের দিকেই ওনার সন্দেহ হয় |
হটাৎ ওনার মোবাইলটা বেজে ওঠে | বিকাশ কল করছে , ' হ্যালো স্যার , আমি গতকাল রাত্রেই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি | ওখানে কোনো সাংঘাতিক অশরীরীর উপস্থিতি আছে | '
প্রশান্ত স্যার : তুমি চলে গেছো , আর এদিকে সকালে আমি নিচের ঘরে এসে দেখি রজনীশ মরে পড়ে আছে | এর জন্য তোমার ওপরে সন্দেহ হচ্ছে আমার | আমি এক্ষুনি পুলিশকে ফোন করে ডেকে সব কথা বলবো |
বিকাশ : কি ! রজনীশ মারা গেছে ! আমি আপনাকে কালকে রাত্রেই বলেছিলাম যে ওকে আমাদের সাথে থাকতে দিন | আপনি শুনলেন না আমার কথা | আপনার জন্যেই এতবড়ো বিপদটা হয়ে গেলো |
প্রশান্ত স্যার : আমি তখন বুঝিনি যে ব্যাপারটা এত গুরুতর | যাই হোক , তুমি যেখানেই থাকো , এক্ষুনি চলে এসো এই বাড়িতে | পুলিশ আসলে সবাইকে জেরার মুখে পড়তে হবে |
বিকাশ : আমি এক্ষুনি আসছি , আপনি পুলিশকে ফোন করুন |
কিছুক্ষনের মধ্যেই বিকাশ এসে পৌঁছলো ওই বাড়িতে | ততক্ষনে পুলিশ এসে গেছে | পুলিশ সবাইকে আলাদা আলাদা করে জেরা করার জন্য থানায় নিতে গেলো | আর রজনীশের বডিটা পোস্ট মর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দিলো |
থানায় গিয়ে বিকাশ পুলিশকে রজনীশের সাথে হওয়া সব ঘটনা খুলে বললো | আর এও বললো , সে প্রশান্ত স্যারকে অনুরোধ করেছিল রজনীশকে ওদের রুমে রাখার জন্য |
প্রশান্ত স্যারের সাথে কথা বলে পুলিশ জানতে পারলো বিকাশ কাউকে কিছু না জানিয়ে গতরাতেই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় | বিকাশের ফোনের কল রেকর্ডার থেকে পুলিশ ওর সাথে গুরুজীর হওয়া কথাবার্তা সব শুনলো |
পুলিশ ওদেরকে বলে দিলো , ইনভেস্টিগেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কেউ গোয়া শহরের বাইরে না যায় | আর ওদের বাড়িতেও নজরদারি করার জন্য পুলিশের লোক মোতায়েন থাকবে | কোনো কিছু সন্দেহজনক দেখলেই ওরা যেন পুলিশকে সব জানায় | আর ইতিমধ্যে পুলিশ গুরুজীকে ফোন করে অবিলম্বে গোয়ায় ডেকে পাঠায় |
সারাদিন প্রচন্ড টানাপোড়েনের মধ্যে কেটে গেলো সবার | পুলিশ ডাইনিং রুম এবং রান্নাঘর সিল করে দিয়ে গেছে | ওদিকে যাওয়া সবারই বারণ |
রাত্রিবেলা বিকাশ নিজের হোটেলের রুমে ফিরে গেলো | আর বাকিরা সবাই বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করিয়ে খেয়ে , তাড়াতাড়ি ঘুমানোর ব্যবস্থা করে নিলো |
প্রশান্ত স্যার একাই থাকবেন | আর বাকি দুজন আরেকটা রুমে যেমন ছিল তেমনই থাকবে |
রাত তখন ঠিক এগারোটা | সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন | প্রশান্ত স্যার ঘুমের মধ্যে অস্বস্তি অনুভব করতে লাগলেন | কেউ যেন ওনার মাথার কাছে বসে ওনার চোখেমুখে ঠান্ডা নিঃশ্বাস ফেলছে | একঝটকায় ঘুমটা ভেঙে গেলো ওনার , ' কই , কেউ তো নেই | আমি তো স্পষ্ট হীমশীতল বাতাস আমার মুখের ওপর অনুভব করলাম | এয়ার কন্ডিশনটাও তো চলছেনা | তাহলে এত ঠান্ডা হওয়া এলো কোথা থেকে ! '
হটাৎ বাথরুমের ভেতরে ঠকঠক করে যেন লাঠির আওয়াজের মতো শব্দ পেয়ে উনি তড়িঘড়ি উঠে বাথরুমের দরজাটা খুলে দেখলেন , ' না , কেউ কোত্থাও নেই | এই সবই কি আমার মনের ভুল ! নাকি বিকাশের কথায় কোথাও না কোথাও কোনো সত্যতা লুকিয়ে আছে ! '
বলতে বলতে সিলিং ফ্যানটা সজোরে বিছানার ওপর ভেঙে পড়লো | আর বারান্দার দরজার বাইরে একটা ছায়াময় অবয়ব দেখতে পাওয়া গেলো | ছায়ামূর্তিটা যেন খুব কষ্টে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে , লাঠি বা ক্র্যাচেস-এর ওপর ভর করে |
বন্ধ রুমের ভেতর দিয়ে বারান্দায় কে গেলো ! কিভাবেই বা গেলো ! তাড়াতাড়ি উনি একটানে দরজাটা খুলে কাউকে খুঁজে পেলেননা | হটাৎ দমকা বাতাস এসে ওনাকে সজোরে আছড়ে বিছানার ওপর নিয়ে গিয়ে ফেললো | উনি প্রানপনে চিৎকার করে উঠলেন , ' বাঁচাও , বাঁচাও , কে কোথায় আছো ! '
ওনার চিৎকার শুনে সংলগ্ন রুমে থাকা অয়ন এবং অনিল চমকে জেগে উঠল | তাড়াতাড়ি ওরা এসে প্রশান্ত স্যারের দরজায় সজোরে ধাক্কা মারতে লাগলো |
প্রশান্ত স্যার কোনোমতে নিজেকে টেনে বিছানা থেকে তুলে ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলেন | অয়ন আর অনিলকে দেখে উনি ভয়ে কাঁদতে শুরু করলেন , ' বিকাশ ঠিক বলেছিলো , এই বাড়িটা ভালো নয় , এখানে অশরীরীর উপস্থিতি আছে | এক্ষুনি চলো , আমরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাই , নাহলে কেউ বাঁচবোনা , রাজনীশের মতো আমাদেরকেও মরতে হবে | '
জাঁদরেল প্রশান্ত স্যারের এই রূপ দেখে অয়ন আর অনিলও ভয় পেয়ে গেলো | সেই রাত্রেই ওরা তিনজন বাড়ি ছেড়ে বিকাশ যে হোটেলে গিয়ে উঠেছিল , সেখানে আশ্রয় নিলো | প্রশান্ত স্যার বিকাশের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন নিজের ভুলের জন্য |
পরেরদিন সকালে গুরুজী তার দুজন শিষ্যকে সঙ্গে করে গোয়া এসে পৌঁছলেন | বিকাশের সাথে যোগাযোগ করে সবাই মিলে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে পৌঁছলেন |
বিভীষিকাময় গত রাতের অভিজ্ঞতা পুলিশকে বলতে বলতে প্রশান্ত স্যার ভয়ে কেঁপে কেঁপে উঠছিলেন |
পুলিশ গুরুজীকে জেরা করতে শুরু করলো , ' আপনি সুদূর এলাহাবাদে বসে কিভাবে ওই বাড়ির ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিকাশকে বলে দিলেন ? আপনার কি ওই বাড়িতে কেউ চেনা আছে ? '
গুরুজী : এই পৃথিবীতে এমন অনেক জিনিস আছে যা মানুষ কল্পনাও করতে পারেনা | কতটুকুই বা জানি আমরা ?
পুলিশ : আমার সন্দেহ হচ্ছে , নিশ্চই ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আপনার কোনো হাত আছে | পোস্ট মর্টেম রিপোর্টটা এলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে |
গুরুজী : আমি হলফ করে বলতে পারি আপনারা ওই রিপোর্টে কিচ্ছু খুঁজে পাবেন না | সব জিনিস বিজ্ঞানের চোখে ধরা পড়েনা | অতিজাগতিক বস্তু বলেও কিছু আছে | অপদেবতার দ্বারা হত্যায় কখনোই কোনো সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়না |
পুলিশ : সেটা আমরা সন্ধ্যেবেলার মধ্যেই বুঝতে পারবো | আজকে সন্ধ্যে ছয়টার সময় প্রাথমিক পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসবে | তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ এই শহরের বাইরে যাবেন না | আপনাদেরকে গৃহবন্দী করে রাখার ব্যবস্থা করেছি , তাই পালানোর চেষ্টা করলেই সোজা এনে লক - আপে ভরে দেবো |
গুরুজী পুলিশের কথায় মৃদু হেসে বললো , ' আপনি আপনার মত করে চেষ্টা করুন , আমি যোগসাধনার মাধ্যমে জানার চেষ্টা করবো ওই বাড়ির অশরীরীর ইতিহাস | '
Copyright©All Rights Reserved
Piyali Chakravorty
চলবে ..............

Interesting
উত্তরমুছুন😘😘😘😘😘😘
মুছুন